হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে। শনিবার ১৫ আগস্ট আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি জানান, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানেরই থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে।
ইতোমধ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামও বেড়ে গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ ডলারে ঠেকেছে। জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে জ্বালানি খাতে সামান্য বেশি খরচ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই জলপথের ওপর নিজেদের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অধিকার দাবি করে আসছে। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো সংঘাত তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন