আদালতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মামলার রায় লেখা বেআইনি না হলেও এটি অনৈতিক ও যথাযথ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তার মতে, বিচারকের নিজস্ব বিবেক, চিন্তাশক্তি ও বিচারবোধ কোনোভাবেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। শনিবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসন গ্রীষ্মকালীন বিদ্যালয়-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি রায় লেখার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। প্রথমে মামলার প্রকৃত ঘটনা ও তথ্য জানতে হবে। এরপর সেই তথ্যের সঙ্গে প্রযোজ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো প্রয়োগ করতে হবে। সবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিচারককে নিজের বিবেক ও বিচারবোধ কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের বিবেক তার নিজস্ব চিন্তাশক্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে একজন বিচারকের বিবেক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকের নিজস্ব বুদ্ধি ও বিচারবোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানান, সম্প্রতি ইংল্যান্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় একটি মামলার রায় লেখার ঘটনা সামনে আসে। পরে দেখা যায়, ওই রায়ে যেসব বিচারিক সিদ্ধান্তের সূত্র উল্লেখ করা হয়েছিল, সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এ কারণে আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল কাজে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধান বিচারপতি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন মোহাম্মদ একরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনোভা শেলী।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন