যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অস্থিরতা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, সংঘাত নয়—সংলাপ ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের বিরোধের সমাধান সম্ভব। শনিবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে পারলে ইরান তার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে ইরান, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের স্বার্থে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, ইসরাইলের নিরাপত্তাহীনতা ও আগ্রাসনকে উসকে দেওয়া কোনোভাবেই পরিস্থিতির সমাধান করবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে নিজেদের ভূখণ্ড ও জনগণ রক্ষায় শক্ত অবস্থান নেবে তেহরান। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, নিজেদের দেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কোনো জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার ক্ষমতা কোনো শক্তির নেই। ইরান সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হলেও হুমকি ও আগ্রাসনের সামনে দেশটির জনগণ, কর্মকর্তা এবং সামরিক নেতৃত্ব কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
এদিকে ইরানের তেহরান প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ-সাদেক মোতামেদিয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে দেশটি ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হয়েছিল। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তেহরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ১ হাজার ২০০টির বেশি স্থাপনায় হামলার কথা উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, এসব ক্ষতির পরও দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। পাশাপাশি নৌ অবরোধের কারণে সমুদ্রপথে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে চলতি ইরানি বছরের প্রথম চার মাসে তেল বিক্রি থেকে পাওয়া প্রায় ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম। ২১ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত সময়ে এই রাজস্ব বাজেটের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে একই সময়ে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—দুই পথই একসঙ্গে অনুসরণ করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে তেহরান।
সব মিলিয়ে ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক চাপ বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন