বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ‘গুমের কাহিনী’ তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত হলেও কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিরাজ শেখের লোকজন নদীর তীরে একটি পন্টুন স্থাপন করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই পন্টুন ব্যবহার করে জলদস্যুদের জন্য সমুদ্র থেকে রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হতো। পরে কোস্টগার্ড পন্টুনটি সরিয়ে দিলে এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় কোস্টগার্ডের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। এ সময় কম্পিউটার ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পন্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পাশাপাশি মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড নিয়ে গেছে—এমন অভিযোগও সামনে আসে। তবে তার মতে, পুরো ঘটনার পেছনে জলদস্যুদের পরস্পরবিরোধী গ্রুপগুলোর সংঘাত থাকতে পারে। মিরাজ শেখ ও তার বাবার অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের সম্পর্কে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরাজের বিরোধী পক্ষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর সরকার স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, অন্য একটি বাহিনীকে দিয়ে তদন্ত করানো হলেও এখন পর্যন্ত সেখান থেকে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ভবিষ্যতে কেউ মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুমের একটি কাহিনী দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। একই সঙ্গে সরকারের অবস্থান স্বচ্ছ দাবি করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আরও স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনো পক্ষ স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে চাইলে সরকার তাতেও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন