সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের অধিকারে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। একই সঙ্গে অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা ঠেকাতে সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শুক্রবার নেত্রকোনার কেন্দুয়া পাবলিক হল মিলনায়তনে ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম’-এর ওরিয়েন্টেশন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই পরিবেশ বজায় থাকবে। সাংবাদিকরা যেন কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই নির্ভয়ে ও বস্তুনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের চাপ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কীভাবে আরও বিস্তৃত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা রোধের প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের অধীনে ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সংবাদকর্মীরা এর সুফল পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেও সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন