রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্সের শ্রেণিকক্ষ থেকে যাত্রা শুরু। এরপর ব্যবসা উন্নয়ন ও বিক্রয়ের প্রাথমিক দায়িত্ব পেরিয়ে একের পর এক বড় প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা। আর সেই ধারাবাহিক পথচলায় এবার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের সৈয়দ তানভীর আহমেদ।
এক দশকের বেশি সময়ের পেশাগত জীবনে বিভিন্ন দেশের বাজারে কাজ করে বর্তমানে ওমানের রাজধানী মাসকাটভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ডিবি ইনভেস্টিংয়ের বৈশ্বিক ব্যবসা, কৌশল ও পরিচালন বিভাগের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তানভীরের কর্মজীবনের শুরুটা ছিল ব্যবসা উন্নয়ন ও বিক্রয়কেন্দ্রিক কাজ দিয়ে। পরে কুয়ালালামপুরভিত্তিক গ্লোবাল মার্কেট ইনডেক্সে ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জারা এফএক্সে বিক্রয় পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। তার আগে ওয়ানরয়্যালে জ্যেষ্ঠ ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এই পর্যায়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের বাস্তবতা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তানভীর। ধীরে ধীরে তার কাজের পরিধি শুধু পণ্য বা সেবা বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং নতুন বাজার তৈরি, অংশীদার গড়ে তোলা এবং গ্রাহকভিত্তি সম্প্রসারণের দিকে বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে ওয়ানরয়্যালে আঞ্চলিক ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওমানের বাজারের দায়িত্ব পান তিনি। বিভিন্ন অঞ্চলের বাজার পরিস্থিতি বুঝে ব্যবসা সম্প্রসারণের কৌশল নির্ধারণ করা ছিল তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে অংশীদার ও সহযোগী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, স্থানীয় বাজারের উপযোগী আর্থিক সেবা চালু এবং ওমান কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তানভীর। তার নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে নিট আমানত পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পায় এবং ৪০ হাজারের বেশি ব্যবসায়ী ও ট্রেডার প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত হন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বড় গ্রাহকভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রেও তার সক্ষমতা প্রকাশ পায়।
কাজের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ওমান ও লাতিন আমেরিয়ার মতো বৈচিত্র্যময় বাজারে কাজ করার সুযোগ হয়েছে তার। প্রতিটি অঞ্চলের গ্রাহক আচরণ, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ভিন্নতা বুঝে কৌশল পরিবর্তনের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন তিনি। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ডিবি ইনভেস্টিং তাকে প্রধান ব্যবসা উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। তখন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিয়ায় ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কৌশলগত প্রবৃদ্ধির দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।
তবে কয়েক মাসের মধ্যেই দায়িত্বের পরিধি আরও বাড়ে। ২০২৬ সালের জুনে তাকে গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন পদে বৈশ্বিক ব্যবসা পরিচালনা, কৌশল নির্ধারণ এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অর্থাৎ তার ক্যারিয়ারের পথচলাটা অনেকটা বিক্রয় থেকে কৌশল নির্ধারণ, এরপর আঞ্চলিক ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সবশেষে বৈশ্বিক সাংগঠনিক নেতৃত্বে পৌঁছানোর গল্প।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবা ও অনলাইন লেনদেনভিত্তিক শিল্পে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন তানভীর। বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পৌঁছানোর এই যাত্রা তরুণ পেশাজীবীদের জন্যও অনুপ্রেরণার। বর্তমানে আর্থিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল লেনদেন, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার পুরো শিল্পের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের প্রত্যাশা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।
এমন বাস্তবতায় তানভীরের পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গিতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত, গ্রাহককেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই ব্যবসা এবং নতুন বাজার তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার কাছে ব্যবসার সাফল্য শুধু আয় বা বাজার সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ। এক দশকের বেশি সময়ের এই পথচলায় প্রতিটি নতুন দায়িত্ব যেন পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করেছে। ব্যবসা উন্নয়নের প্রাথমিক পদ থেকে বিক্রয় নেতৃত্ব, আঞ্চলিক ব্যবসা উন্নয়ন, প্রধান ব্যবসা উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং সর্বশেষ গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার—প্রতিটি ধাপেই বেড়েছে তার দায়িত্ব ও কর্মপরিধি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্সের শিক্ষার্থী থেকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় উঠে আসা সৈয়দ তানভীর আহমেদের গল্প তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়। এটি ধারাবাহিক দক্ষতা অর্জন, বিভিন্ন বাজারের অভিজ্ঞতা এবং কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার একটি উদাহরণ। আর বর্তমান দায়িত্বকে শেষ গন্তব্য হিসেবে না দেখে আরও বড় আন্তর্জাতিক পরিসরে নেতৃত্ব দেওয়ার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখার সুযোগ রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন