দুদক কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছে, নাকি রাজনৈতিক বিরোধীদের টার্গেট করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নই এখন সামনে এনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সাত মাস পর দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে দিয়েছেন সরাসরি চ্যালেঞ্জ—সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হোক। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপির আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে দুদককে এমনভাবে ব্যবহার করছে, যেভাবে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহারের অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ যদি সত্যিই তদন্ত করা হয়, তাহলে বর্তমান সরকারকে সেটি করার সাহস দেখাতে হবে। মানবাধিকার ইস্যুতেও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন নাহিদ। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সামনে আসতে যাওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান তিনি। তার দাবি, গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি অভিযোগের আওতায় থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমেই করা হয়, তাহলে স্বাধীন তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এনসিপির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাহিদ ইসলাম কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, মানুষের কথা বলা বন্ধ করতে এই আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গুমসংক্রান্ত আইনে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি। তারা আইন সংশোধন, মানবাধিকার কমিশনকে আরও স্বাধীন করা এবং নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার দাবি জানান।
সব মিলিয়ে দুদকের পুনর্গঠন, মানবাধিকার আইন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—এই তিন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও প্রকাশ্য হচ্ছে। এখন নাহিদ ইসলামের তোলা অভিযোগের জবাবে সরকার কী অবস্থান নেয় এবং দুদক তাদের কার্যক্রম নিয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন