জামায়াতের ঢাকা-রংপুর লং মার্চকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকার এই কর্মসূচিকে অযৌক্তিক বললেও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে লং মার্চে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই কর্মসূচির আড়ালে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শুক্রবার রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হওয়ার স্থানও এটি।
রাশেদ খানের দাবি, বর্তমান সরকারের সাত মাসের কার্যক্রম গত ছয় মাসে জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। তার মতে, এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচি নেওয়া অযৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথা বলা হচ্ছে, আর এর ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব বক্তব্য রাশেদ খানের রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিযোগ হিসেবেই এসেছে।
লং মার্চের কর্মসূচি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, সাত দফা দাবি আদায়ের জন্য সড়ক অবরোধের প্রয়োজন নেই। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়তে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ঢাকা-রংপুর সড়কে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে এর প্রভাব পড়বে জনজীবনে। রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, লং মার্চকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, লং মার্চে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে নিজেদের কর্মসূচিকে দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ফলে কর্মসূচি ঘিরে সরকারের বক্তব্য এবং বিরোধী রাজনৈতিক জোটের অবস্থান—দুই পক্ষের মধ্যেই স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এ সময় রাশেদ খান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও পরিদর্শন করেন। সেখানে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নিয়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন