পরিবারকে কাছে পাওয়া এখন স্বপ্নসম হয়ে উঠেছে। সারাদিন ক্লাস, ল্যাব, এসাইনমেন্ট আর প্রেজেন্টেশনের ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতে বছরের দুইটা ঈদ পরিবারের কাছে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়। তাইতো কখন ছুটি হবে আর কখনও নিজ বাড়িতে গিয়ে আপনজনের স্নেহ আর ভালোবাসার পরশ পাব সেটা ভাবতেই ব্যাকুল হয়ে উঠি।
ক্যাম্পাস চলাকালীন কতশত স্মৃতি। ক্লাস চলাকালে প্রায়ই বন্ধুরা মিলে একেকজনকে ‘পচানি’ দিই। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, সেই একজনটা আমি! তখন বন্ধুদের এই খেপানোতে মন খারাপ হলেও ছুটিতে এটাই বেশি মিস করি। অদ্ভুত অদ্ভুত সব নামে ডাকা, দলবেঁধে খাওয়াদাওয়া, ঘুরতে যাওয়া, ক্যাম্পাসে দলবেঁধে পিকনিক আর গান আড্ডা মাস্তি, সবকিছুই বাড়িতে এসে মিস করি।
সকালের ক্লাসে ঘুম-ঘুম চোখে যেই মুখগুলো দেখি, যাদের কারণে সকালের ‘ঘুম বিনষ্টকারী’ ক্লাসটাও সহনীয় মনে হয়, ক্যাম্পাস বন্ধ হলে সবচেয়ে মিস করি তাদেরই। তাদের সঙ্গেই আড্ডা, ঘোরাঘুরি, হৈ হুল্লোড় আর মজা-মাস্তি। ক্লাস শেষেও এই মানুষগুলোকে ছেড়ে আসতে ইচ্ছা হয় না। কখনো আড্ডা বসে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে, কখনও কড়ইতলা, বেলতলা বা আমবটতলায় আর কখনোবা গেইটের বাইরে চায়ের দোকানের কাঠের বেঞ্চে। এই বন্ধুগুলোর সঙ্গেই ক্লাসের ফাঁকে চলে যত দুষ্টুমি, হাসাহাসি। সে জন্য টিচারের কাছে বকাও খেতে হয় কখনো। পরীক্ষার আগের রাতে প্রস্তুতি নিয়ে কান্নাকাটির চেয়ে হাসাহাসি করে রাত পার করে দেওয়া, ক্লাসের মধ্যে স্বল্প বিরতিতে চা আর সিঙারা খেতে যাওয়া বা ভ্যানে করে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে চলে যাওয়া। এই সব অসামান্য আনন্দ, সব তো এই বন্ধুদের জন্যই।
প্রিয় ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেলে তাই মিস করি বন্ধুদের। ঈদের ছুটিতে সবাই যার যার বাড়ি চলে গেলে, এই মুহূর্তগুলো তখন বারবার মনে পড়ে। সামনাসামনি বসে আড্ডাতে যেই আনন্দ, ভার্চু্য়াল দুনিয়ায় সেটা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। শুধু ছুটিতে কেন, যখন এই প্রাণের ক্যাম্পাসটাতে থাকব না; প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা সেকেন্ড মিস করব। বন্ধুরা, মিস করব তোদের, তোদের আড্ডা আর বেসুরো গানের জমজমাট আসরটাকে!
তবে বাড়িতে এসে অদ্ভুত এক স্বস্তি আর শান্তির বাতাস বয়ে যায়। হলের চেহারার প্রতিবিম্ব দেখতে পাওয়া পাতলা ডাল আর মোটা স্থূলকার চাউলের ভাতের মধ্যে নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলি। সেই ব্রয়লারের টুকরা আর আঙুলসম মাছের টুকরা থেকে বাসায় মায়ের হাতের সুস্বাদু রান্না দেখে নিজেকে খুঁজে পাই, ভাবি এটাই সেই আগের জীবন। কিন্তু অভাগার কপাল পোড়া সুখ আর সয় কই, এই অমৃত স্বাদের পুরোটুকু নিতে নিতেই ক্যাম্পাস হাতছানি দেয় ফেরার জন্য। মনে হয় স্বজনের বাড়ি বেড়াতে এসেছি, এবার বুঝি নিজ গৃহে ফিরতে হবে।
ছুটি যত কম আর বেশীই হোক না কেনো, অতি নিমেষেই কেটে যায়। ছুটি শেষ হবার দু-একদিন আগে থেকেই চলে গোছগাছ আর ফেরার প্রস্তুতি। বাবা-মা আর পরিবার পরিজনদের চোখে দেখতে পাই অদ্ভুত মায়া। আর দু-একটা দিন থাকতে পারলে বোধহয় ভালোই হতো, এটা ভাবতেই নিঃশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে আর চলে টানা দীর্ঘশ্বাস। কিন্তু নিয়তির বড় অদ্ভুত খেলা, ছাড়তেই হয় প্রিয় গৃহটাকে আর সেই চেনা পরিচিত কক্ষ আর মানুষগুলোকে কোনো এক স্বপ্নের আশায়। ভালোবাসার আকুতি, ভারী মন, দীর্ঘশ্বাস আর নিজের অজান্তে চোখের কোনে পানি বিন্দু নিয়ে আবারও ফিরতে হয় ক্যাম্পাসে...
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন