ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির পায়ের নিচে আর মাটি নাই: ডাকসু ভিপি পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা বাংলাদেশের আজ ইন্দোনেশিয়া পরীক্ষা গাইবান্ধায় দিনে-দুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাই মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, চার মামলায় আসামি এক হাজার, গ্রেপ্তার ২৬ আম্মার ছিলেন শিবিরের ‘সাথী’, বহিষ্কার হন শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চক্রের ৪ নারী আটক ক্যাপ্টেনকে কুপিয়ে বিমান বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন কো-পাইলট: নেতানিয়াহু ৪৩ লাখ কৃষক এ বছর কৃষক কার্ড পাবেন: কৃষিমন্ত্রী দেশ খেয়েছে খাজুরেরা, নাম পড়েছে হুজুরের— চরমোনাই পীর

আম্মার ছিলেন শিবিরের ‘সাথী’, বহিষ্কার হন শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ইসলামী ছাত্রশিবিরের
  • আপলোড সময় : ১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:১৬ সময়
  • আপডেট সময় : ১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:১৬ সময়
আম্মার ছিলেন শিবিরের ‘সাথী’, বহিষ্কার হন শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার সাথী পদ স্থগিত করা হয়েছিল। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে সেই পদ বাতিল করা হয়। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের একটি চিঠিতেও তার সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার নির্দেশের তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর শিবিরের তিনটি চিঠি সামনে আসে, যেখানে সালাউদ্দিন আম্মারের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ রয়েছে।


প্রথম চিঠিটি দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সংগঠনের নজরে আসে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।


এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় এসব অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। চিঠি অনুযায়ী, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তার বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাথী পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।


এর কয়েক মাস পর আসে দ্বিতীয় চিঠি। ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ওই চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বাইরে কর্মকাণ্ড এবং বারবার সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরও পরিবর্তন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সালাউদ্দিন আম্মারের সাথী পদ বাতিল করেছেন। অর্থাৎ, শিবিরের নথি অনুযায়ী, প্রথমে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছিল এবং পরে সেটি বাতিল করা হয়। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষর করা তৃতীয় একটি চিঠিতে সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আরও কিছু অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়।


সেখানে নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন, সম্পদ তসরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার সাথী পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আর সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার সাথী পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


২০২৬ সালের চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, সালাউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং কিছু ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার অভিযোগের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তার অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও সেখানে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এ কারণে সংগঠনের নেতাকর্মীদের তার অনলাইন বা অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের সঙ্গে তার দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখার কথা বলা হয় এবং অন্য সব স্তরের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ জানানো হয়।


এদিকে শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে জামায়াতের এক নেতার যোগাযোগের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে শিবির বা জামায়াতের সাংগঠনিক যোগাযোগ থাকার কথা নয়। একই পোস্টে তিনি জামায়াত নেতা খালিদুজ্জামান সালাউদ্দিন আম্মারের সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে জানেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান অবশ্য চিঠিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, ২০২৫ সালেই সালাউদ্দিন আম্মারকে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে সংগঠনের কোনো সাংগঠনিক যোগাযোগ নেই। ফলে এখন সামনে এসেছে দুটি বিষয়—একদিকে রাকসুর জিএস হিসেবে সালাউদ্দিন আম্মারের বর্তমান দায়িত্ব, অন্যদিকে শিবিরের নথিতে ২০২৫ সালেই তার সাংগঠনিক পদ বাতিলের তথ্য। আর এই নথি প্রকাশ্যে আসার পর তার সাংগঠনিক পরিচয় ও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা তার নিজের বক্তব্যসহ আরও তথ্য প্রয়োজন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এগিয়ে গিয়েও চাইনিজ তাইপের কাছে হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা

এগিয়ে গিয়েও চাইনিজ তাইপের কাছে হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা