৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে ৫৭ জনের নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। বিক্ষোভ শেষে বিএনপির সমালোচনা করে দলটির পায়ের তলায় মাটি নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তবে গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর দুপুরে ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং এ কারণেই দলটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তারেক রহমানের হাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ নেই এবং বিএনপির এমপি-মন্ত্রীরা ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব বক্তব্য সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে এসেছে। ৪৯তম বিসিএসের নিয়োগ নিয়ে সাদিক কায়েমের অভিযোগ, ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চাকরিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খানও নিয়োগে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মেধাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, পরীক্ষায় ও বিভাগে ভালো ফল করা প্রার্থীদের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া প্রশাসনিক বৈষম্যের শামিল। তবে সরকারি নথি অনুযায়ী, ৪৯তম বিসিএস বিশেষ পরীক্ষায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। চূড়ান্ত গেজেটে তাদের মধ্যে ৬১১ জনের নিয়োগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ৫৭ জনের নাম রাখা হয়নি। প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ওই ৫৭ জনকে বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে ডাকসুর নেতারা দাবি করেছেন, শুধু ৪৯তম বিসিএস নয়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও রাজনৈতিক যাচাই-বাছাইয়ের অভিযোগ উঠছে। তাদের বক্তব্য, সরকারি চাকরিতে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও মেধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। ৪৯তম বিসিএসের গেজেট নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে এখন বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে সরকারি ব্যাখ্যা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন