নির্বাচনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় সরকার পতনের কথা বলা নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বিরোধীরা মনের জ্বালা মেটাতে না পেরে আবোল-তাবোল কথা বলছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে রাজপথের আন্দোলনে সরানোর কথা বলা তাদের স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। শুক্রবার বিকেলে লালমনিরহাট শহরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ভুট্টা চত্বরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে একই বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এক দফার নামে বিরোধীরা পলাতক স্বৈরাচারকে দেশে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করছে। তার দাবি, বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, কারও দয়ায় নয়। তাই এক দফা কিংবা ১০ দফা দিয়ে কোনো লাভ হবে না। বিরোধীদের যা বলার, তা সংসদে বলার আহ্বান জানান তিনি। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সংসদে কথা বলার সুযোগ উন্মুক্ত করেছে। তাই রাজপথে কর্মসূচি না দিয়ে সংসদে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনের ছয় মাস না যেতেই সরকার পতনের কথা বলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিরোধীদের স্বৈরাচারী মানসিকতার প্রকাশ ঘটছে। জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হলে বিএনপি বসে থাকবে না—এমন বক্তব্যও দেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো ধরনের নৈরাজ্য হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর জবাব দেওয়া হবে।
সার নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি দাবি করেন, সরকার সময়মতো কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে এবার ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ভালো ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধীরা যেসব ইস্যু নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করেছে, জনগণ সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন ত্রাণমন্ত্রী।
এদিকে ভুট্টা চত্বর নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে লালমনিরহাটে ভুট্টাকে জেলার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, ভুট্টা চত্বরটি লালমনিরহাটের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেনসহ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি তথ্যেও আসাদুল হাবিব দুলুকে বর্তমান মন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন