মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে কারারক্ষীরা লাঠি দিয়ে মারধর করেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর আইনজীবী। তাঁর দাবি, হামলার সময় কারাগারের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। তবে কারা কর্তৃপক্ষ আগে এই মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ঘটনাটিকে কারাবিধি অনুযায়ী নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত এবং তারেক সাঈদের চিকিৎসার ব্যবস্থা চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ১ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তারেক সাঈদের আইনজীবী মাহমুদুল হুসাইন রুবেলের দাবি, গত ১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে কয়েকজন কারারক্ষী লাঠিসোঁটা নিয়ে তারেক সাঈদের ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। হামলার সময় কারাগারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে কারা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার জান্নাত-উল-ফরহাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক সাঈদ কারাগারে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন এবং নষ্ট খাবার ছোড়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কারাবিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তাঁকে মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয় এবং এক মাসের জন্য টেলিফোনে যোগাযোগ ও পারিবারিক সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়। এর আগে গত ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তারেক সাঈদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের তদন্ত চলছে।
এদিকে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতাদের গুম-খুনের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বুধবার তারেক সাঈদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন এদিন দাখিলের কথা থাকলেও প্রসিকিউশন আরও দুই মাস সময় চায়। পরে আগামী ৩০ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আসাদুজ্জামান বাবুলকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজিয়ে হত্যা করা হয়। একই বছরের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করা হয়। এসব অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান।
তারেক সাঈদ নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও। ওই মামলায় ২০১৭ সালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরে হাইকোর্টেও তা বহাল থাকে; মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এখন মুন্সিগঞ্জ কারাগারে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে আগামী ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর শুনানিতে কী নির্দেশনা আসে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন