একদিকে মদ পুরোপুরি নিষিদ্ধ, অন্যদিকে সেই নিষিদ্ধ মদ পান করেই একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা। ভারতের নাগাল্যান্ডে গত দুই দিনে সন্দেহভাজন ভেজাল মদ পানে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। মৃতদের মধ্যে মোককচুং জেলায় ৮ জন এবং তুয়েনসাং জেলায় ১১ জন রয়েছেন। তবে এখনো নিশ্চিত নয়, এসব মৃত্যুর পেছনে ভেজাল মদই সরাসরি দায়ী কি না।
ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে নাগাল্যান্ড পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই বাংল্যাং চ্যাংয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই দল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি অবৈধ মদের উৎস, উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছে। মোককচুং জেলার মাঙ্গকোলেম্বা ও আশপাশের এলাকায় সন্দেহভাজন ভেজাল মদ পান করার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার পর্যন্ত ওই জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ জনে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তুয়েনসাং জেলায় এর আগেই ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের অনেকেই অসুস্থ হওয়ার আগে মদ পান করেছিলেন। তাদের মধ্যে ঝাপসা দেখা, তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা যায়। তবে তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলছেন না যে ভেজাল মদ পানই এসব মৃত্যুর কারণ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে নমুনা গুয়াহাটির ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিশেষ তদন্তকারী দল অবৈধ মদের পুরো সরবরাহ চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, কোথা থেকে এসব মদ এসেছে এবং কীভাবে তা বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে। নাগাল্যান্ডে মদের বিষয়ে আইনও বেশ কঠোর। ১৯৮৯ সালের নাগাল্যান্ড মদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় সেখানে মদ তৈরি, বিক্রি, সংরক্ষণ ও পান নিষিদ্ধ। আইনটি ১৯৯০ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর রয়েছে।
এরপরও কীভাবে নিষিদ্ধ মদ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাচ্ছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—১৯ জনের মৃত্যুর পর সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে অবৈধ মদের উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। এদিকে সাধারণ মানুষকে অপরিচিত, অনুমোদনহীন বা সন্দেহভাজন উৎস থেকে মদ পান না করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। মদ পানের পর মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা, তীব্র মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে নাগাল্যান্ডে ১৯ জনের মৃত্যু ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন—এই মৃত্যুর পেছনে আসলে কী ছিল? ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এবং তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মিলতে পারে সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন