ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে হৃদয়স্পর্শী বার্তা নেইমারের অক্টোবরের পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫১৩ মিলিয়ন ডলার ‘কেন কুষ্টিয়ার ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চুপ, এখন বুঝতেছেন?’ মোদির পর ভারতীয় সেনাপ্রধানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বনানীতে ৩২ বর্গফুট কবরের সংরক্ষণ ফি দেড় কোটি টাকা, ২৫ বছর পর করতে হয় নবায়ন এলএনজিতে বাড়ছে ব্যয়, কাটছে না গ্যাস-সংকট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ, বাড়ছে দারিদ্র্য, স্থবির কর্মসংস্থান: বিশ্বব্যাংক রাজধানী রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করলো সৌদি আরব বিদায়ী ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট মেসির, বেনিনকে ৩-০ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা বিশ্ববাজারে ১০১ ডলারে পৌঁছেছে জ্বালানি তেলের দাম

এলএনজিতে বাড়ছে ব্যয়, কাটছে না গ্যাস-সংকট

গ্যাসের সংকট কমাতে সরকারকে এলএনজি কিনতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বাড়ছে আমদানি খরচ। কিন্তু
  • আপলোড সময় : ৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়
  • আপডেট সময় : ৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়
এলএনজিতে বাড়ছে ব্যয়, কাটছে না গ্যাস-সংকট

গ্যাসের সংকট কমাতে সরকারকে এলএনজি কিনতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বাড়ছে আমদানি খরচ। কিন্তু এত টাকা খরচের পরও শিল্পকারখানা কিংবা বাসাবাড়িতে প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত গ্যাস পৌঁছাচ্ছে না। কোথাও সরবরাহ কম, কোথাও আবার চাপ এতটাই কম যে কারখানায় উৎপাদন চালানো কিংবা বাসার চুলা জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অর্থাৎ ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু সংকটের সমাধান হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে চড়া দামের খোলা বাজার থেকে এলএনজি কেনা কমিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আমদানির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এতে খরচ কিছুটা কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সরবরাহে বাধা, ভাসমান টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা এবং জরুরি মজুতের ঘাটতির কারণে আমদানিনির্ভর গ্যাসব্যবস্থা এখনো বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।


সবচেয়ে বড় চাপ দেখা যাচ্ছে ভর্তুকিতে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এলএনজিতে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরের প্রথম তিন মাস, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ কার্গো এলএনজি কিনতেই খরচ হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসেই এলএনজি কেনার পেছনে এমন অর্থ ব্যয় হয়েছে, যা পুরো বছরের নির্ধারিত ভর্তুকির কয়েকগুণ। গত অর্থবছরে এলএনজি খাতে ভর্তুকি ছিল ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই আগের পুরো বছরের ভর্তুকির প্রায় ৭১ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। একই হারে ব্যয় চলতে থাকলে বছরে ভর্তুকির প্রয়োজন ৪১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।


এ কারণে চলতি অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দের প্রয়োজন জানিয়ে জ্বালানি বিভাগের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। তবে সংশোধিত বাজেটের আগে বরাদ্দ বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে। ফলে বছরের বাকি সময়ে এলএনজি আমদানির আর্থিক চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামও স্থির নয়। যুদ্ধ বা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে, আর তার সঙ্গে বেড়ে যায় দাম। শীত মৌসুমে চাহিদা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও অর্থনীতিতে।


সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১০ কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। অথচ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪১ কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১১ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে এলএনজি আমদানির পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে এর পেছনে ব্যয়ের পরিমাণও। এদিকে দ্রুত চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত খোলা বাজার বা স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির আগে বাংলাদেশ এই বাজার থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি প্রায় ১০ থেকে ১২ ডলারে কিনত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই দাম বেড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ডলারে উঠেছে।


চলতি অক্টোবরের জন্য কেনা কয়েকটি স্পট কার্গোর দাম পড়েছে প্রায় ২৭ থেকে ২৯ ডলার। অন্যদিকে কিছু স্বল্পমেয়াদি ও চুক্তিভিত্তিক সরবরাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়েছে প্রায় ২৫ দশমিক ২৬ থেকে ২৫ দশমিক ৩৫ ডলার। অর্থাৎ কিছু ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক কেনাকাটা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও সরবরাহের শর্ত ও দামের হিসাব আলাদা হওয়ায় সব কার্গোতে একই মাত্রার সাশ্রয় হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সমস্যা আরও বাড়ে যখন নির্ধারিত কম দামের সরবরাহ কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। তখন বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়। আবার এলএনজি দেশে পৌঁছানোর পরও ভাসমান টার্মিনালে কারিগরি কিংবা পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিলে সেই জ্বালানি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে বেশি অর্থ খরচ করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।


এই অবস্থায় ডিসেম্বর পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে পেট্রোবাংলা। এজন্য বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে বড় কোনো সরবরাহকারী প্রতিশ্রুত কার্গো সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে আবারও চড়া দামের স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। এদিকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে এলএনজি আমদানি বর্তমানে বন্ধ থাকলেও আগামী বছরের শুরুতে আবার চুক্তিভিত্তিক আমদানি শুরু করার বিষয়ে আশাবাদী জ্বালানি বিভাগ।


শুধু আমদানির খরচই নয়, গ্যাসসংকটের বড় মাশুল দিতে হচ্ছে দেশের শিল্প খাতকেও। ব্যবসায়ী নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে পোশাক খাতের কিছু কারখানায় উৎপাদন একপর্যায়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। আবার কোনো কোনো নিটওয়্যার কারখানায় উৎপাদন কমেছে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।


ফলে কারখানাগুলোকে বারবার উৎপাদন পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কোথাও কয়েক ধাপে কাজ করতে হচ্ছে, এতে উৎপাদনের সময় বাড়ছে এবং খরচও বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ে রপ্তানির পণ্য সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা যাচ্ছে ২৭০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। স্থানীয় গ্যাস উৎপাদনে সমস্যা কিংবা এলএনজি আমদানিতে বাধা তৈরি হলে সরবরাহ আরও কমে ২২৫ থেকে ২৩০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসতে পারে।


গ্যাস না পেলে অনেক কারখানাকে ডিজেল বা ফার্নেস অয়েলের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়। এতে সরাসরি বেড়ে যায় উৎপাদন খরচ। আবার উৎপাদন কমলেও কারখানার অনেক স্থায়ী ব্যয় কমে না। ফলে কম পণ্যের ওপর একই খরচ ভাগ হওয়ায় প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ছে রপ্তানির প্রতিযোগিতা, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর। অন্যদিকে বাসাবাড়িতেও কমছে না ভোগান্তি। সব মিলিয়ে এলএনজি আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও যদি পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে জ্বালানি সংকটের আর্থিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তিন ট্রাকভর্তি ৪ লাখ পাঠ্যবই জব্দ নিয়ে তুলকালাম!

তিন ট্রাকভর্তি ৪ লাখ পাঠ্যবই জব্দ নিয়ে তুলকালাম!