ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অভিষেকের ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক সাহিবজাদা হাসিনার দুঃশাসন নিয়েও সরব ছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাই আলেমদের অন্যের ‘গেমের ঘুঁটি’ না হয়ে ‘নিজস্ব গেমের প্লেয়ার’ হতে বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ কিংবা মজুত হস্তান্তর করবে না ইরান ডিজেলের দাম কমার বড় ঘোষণা দ্রুত আসছে: ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে দেশে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী গানবাজনা করায় বিয়েবাড়িতে হামলা, বরসহ আহত ১০ ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হতে হবে জনগণের জন্য: মঈন খান সংকুচিত হচ্ছে জনশক্তি রপ্তানির বাজার

১০ লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনি কালো জাদুতে আক্রান্ত ও ক্ষতি থেকে বাঁচার ৫ আমল

হঠাৎ শরীর খারাপ, অস্বস্তিকর স্বপ্ন, সংসারে অশান্তি কিংবা অকারণ ভয়—এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে অনেকেই কালো জাদুর আশঙ্কা করেন।
  • আপলোড সময় : ১০ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১০ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৫ সময়
১০ লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনি কালো জাদুতে আক্রান্ত ও ক্ষতি থেকে বাঁচার ৫ আমল

হঠাৎ শরীর খারাপ, অস্বস্তিকর স্বপ্ন, সংসারে অশান্তি কিংবা অকারণ ভয়—এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে অনেকেই কালো জাদুর আশঙ্কা করেন। কিন্তু এসব লক্ষণ দেখলেই কি কালো জাদুর প্রভাব রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়? ইসলামে জাদু সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, আর ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পেতে কোন দোয়া ও আমলের কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়।


ইসলামে জাদু করা গুরুতর গুনাহের কাজ হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জাদুর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তবে শারীরিক অসুস্থতা, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা কিংবা পারিবারিক অশান্তির মতো বিষয়কে শুধু কালো জাদুর লক্ষণ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এসব সমস্যার পেছনে শারীরিক, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক নানা কারণ থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।


ইসলামি শিক্ষায় জাদুর অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা পেতে নিয়মিত দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এ ক্ষেত্রে কোন পাঁচটি আমলের কথা উল্লেখ করা হয়।


প্রথম আমল: সকাল-সন্ধ্যায় সুরক্ষার দোয়া পাঠ,


হাদিসে সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার একটি বিশেষ দোয়া পাঠের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। দোয়াটি হলো—


আরবি: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ


উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামায়ি, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।


অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সঙ্গে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এ দোয়া পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮৮)


দ্বিতীয় আমল: সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া


বিভিন্ন ধরনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে এই দোয়াটি পাঠ করা যায়।


আরবি: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ


উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।


অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।


সহিহ হাদিসে এ দোয়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সন্ধ্যায় এটি পাঠ করার কথা হাদিসে এসেছে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৩৭)


তৃতীয় আমল: আরোগ্যের জন্য দোয়া ও রুকইয়াহ


ইসলামে কোরআনের আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত দোয়া পাঠ করে আল্লাহর কাছে আরোগ্য প্রার্থনার পদ্ধতিকে রুকইয়াহ বলা হয়। অসুস্থতা বা কষ্টের সময় এই দোয়াটি পড়া যায়।


আরবি: بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ


উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরক্বিকা, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউজিকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনি হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা, বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।


অর্থ: আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি—যে বিষয় আপনাকে কষ্ট দেয়, প্রত্যেক প্রাণের অনিষ্ট এবং হিংসুকের দৃষ্টি থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি।


এ দোয়াটি সহিহ মুসলিমের ২১৮৬ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।


চতুর্থ আমল: সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ


কোরআনের সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পাঠের কথা হাদিসে এসেছে। বিশেষ করে সুরা ফালাক ও সুরা নাসে বিভিন্ন ধরনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। নিয়মিত এসব সুরা পাঠ করা মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি।


পঞ্চম আমল: সুরা ফাতিহা পাঠ ও আল্লাহর ওপর ভরসা


সুরা ফাতিহা কোরআনের প্রথম সুরা। হাদিসে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সুরা ফাতিহা পাঠ করে রুকইয়াহ করার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তাই অসুস্থতা ও কষ্টের সময় এ সুরা পাঠ করে আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও কল্যাণ প্রার্থনা করা যায়।


ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, বিপদ-আপদে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, নিয়মিত ইবাদত করা এবং কোরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।


ইসলামে কালো জাদুর অবস্থান কী?


ইসলামে জাদু গুরুতরভাবে নিষিদ্ধ। সহিহ বুখারির হাদিসে জাদুকে ধ্বংসকারী সাতটি গুনাহের অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কারও আচরণ, অসুস্থতা কিংবা পারিবারিক সমস্যার ভিত্তিতে তাঁকে জাদুগ্রস্ত বলা বা কাউকে জাদু করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা উচিত নয়। এ ধরনের অভিযোগের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।


সবশেষে মনে রাখা জরুরি, শরীর বা মনের কোনো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে হবে, পাশাপাশি ইচ্ছা করলে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী দোয়া ও ইবাদতও করা যায়। কুসংস্কার, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং চিকিৎসা বন্ধ করতে উৎসাহিত করে—এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৬০ টাকার ডাব ঢাকায় বিক্রি হয় ২০০ টাকায়!

৬০ টাকার ডাব ঢাকায় বিক্রি হয় ২০০ টাকায়!