সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই দুশ্চিন্তা বাড়ছে দেশের সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে তাঁদের আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কেন তৈরি হচ্ছে বিলম্ব? আর এই অপেক্ষা শেষ হতে পারে কবে?
নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন কাঠামোতে বেতন দেওয়ার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই বিলম্বের অন্যতম কারণ হলো বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিতে প্রযুক্তিগত পার্থক্য। দেশের স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এমপিওভুক্ত মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হিসাব এখনো হাতে-কলমে বা ম্যানুয়ালি করতে হয়।
এই পার্থক্যের কারণে এমপিওভুক্ত পুরো শিক্ষা খাতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দিতে বাড়তি সময় লাগতে পারে। আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এই সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে, মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের হিসাবের জটিলতার কারণে স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনও কি আটকে থাকবে—এমন প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব খাত একই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একসঙ্গেই নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে একটি খাতের হিসাবসংক্রান্ত জটিলতার প্রভাব পড়ছে পুরো এমপিওভুক্ত শিক্ষকসমাজের ওপর।
বর্তমানে সারা দেশে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অধিকাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়তি বেতন দেওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার ওপরই তাঁদের আর্থিক সুবিধা অনেকাংশে নির্ভর করছে।
এ কারণে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে তাঁদের ব্যক্তিগত বাজেট ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এখন তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা, হিসাবসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন দেওয়ার বিষয়টি এখনো একটি সম্ভাব্য সময়সীমা মাত্র; নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। তাই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পাওয়ার চূড়ান্ত সময় জানতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন