মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই থেমে গেল এক সম্ভাবনাময় ক্রিকেট জীবনের পথচলা। একসময় দেশের হয়ে বল হাতে মাঠ মাতিয়েছেন, পরে আম্পায়ার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। এমনকি বিশ্বকাপের ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। সেই জিম্বাবুয়ের সাবেক নারী ক্রিকেটার ও আন্তর্জাতিক আম্পায়ার সারাহ ডামবানেভানা আর নেই।
সোমবার, ১২ অক্টোবর, জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সারাহ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৬ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত মার্চে একটি চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর থেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন সারাহ। তিনি ছিলেন একজন পেসার। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এই ক্রিকেটার। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি তিনি। বরং আম্পায়ারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।
২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের আম্পায়ার উন্নয়ন প্যানেলে জায়গা করে নেন সারাহ। এরপর ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর শুরু হয় তাঁর আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার। একই বছর অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফাইনালে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করা প্রথম জিম্বাবুইয়ান নারী আম্পায়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েন সারাহ।
তাঁর সাফল্যের যাত্রা সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০২৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আম্পায়ারিং করেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেন সারাহ। ওই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া সম্পূর্ণ নারী ম্যাচ পরিচালনা কর্মকর্তাদের প্যানেলেরও সদস্য ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের কর্মজীবনে মোট ৬৩টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন সারাহ। এর মধ্যে ছিল ৪২টি নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক, ১১টি নারী ওয়ানডে আন্তর্জাতিক এবং পুরুষদের ১০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
খেলোয়াড় থেকে আন্তর্জাতিক আম্পায়ার—দুই ভূমিকাতেই নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন সারাহ ডামবানেভানা। অল্প বয়সেই তাঁর এমন চলে যাওয়া ক্রিকেট অঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলেছে। যে মানুষটি একসময় দেশের হয়ে মাঠে লড়েছেন, পরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েছেন, তাঁর অবদান জিম্বাবুয়ের নারী ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন