ঢাকা | |

হুথিদের ‘সমান কঠোর’ জবাবের হুঁশিয়ারি সৌদির মন্ত্রীর

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা, প্রাণহানি এবং তেল-গ্যাস স্থাপনাকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট—এবার হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার
  • আপলোড সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:১৭ সময়
  • আপডেট সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:১৭ সময়
হুথিদের ‘সমান কঠোর’ জবাবের হুঁশিয়ারি সৌদির মন্ত্রীর

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা, প্রাণহানি এবং তেল-গ্যাস স্থাপনাকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট—এবার হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক হামলাগুলো এতটাই গুরুতর যে এর জবাবও কঠোর হতে হবে। ফলে ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


রিয়াদে আয়োজিত বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের জ্বালানি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। তাই সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও সমানভাবে কঠোর হতে হবে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন। এর আগের দিন শনিবার বিমানবন্দরটির আরেকটি টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। হামলার পর সংশ্লিষ্ট টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হয়।


বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস স্থাপনাকে ঘিরে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে দেশটির জ্বালানি খাত এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে পারে।


অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরবের চালানো হামলার জবাব হিসেবেই তারা সৌদি ভূখণ্ডে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। অর্থাৎ, দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার রাজধানী সানায় একটি আবাসিক ভবনে সৌদি বিমান হামলায় এক শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ছয়জন। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


ইয়েমেনের সংঘাতের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর, ২০১৫ সালে, ইয়েমেনের সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়। এরপর থেকে সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বর্তমানে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারি বাহিনীকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান সহায়তা দিয়ে আসছে। এই দীর্ঘ সংঘাতের প্রভাব শুধু ইয়েমেনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; সৌদি আরবের নিরাপত্তা, বিমান চলাচল এবং জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সব মিলিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের ঘোষণা সংঘাতের নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, রিয়াদ হুথিদের হামলার জবাবে কী পদক্ষেপ নেয় এবং পাল্টাপাল্টি আক্রমণ বন্ধে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে আসে কি না। কারণ, সংঘাত আরও বাড়লে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে সাধারণ মানুষ ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার