নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে থাকা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে স্লোগান, ‘গো ব্যাক’ বলে চিৎকার—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে হেনস্তার অভিযোগে এবার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দেশে-বিদেশে সক্রিয় নেটওয়ার্ক নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির সহিংস ও অমানবিক চরিত্র আবারও সামনে এনেছে। তাঁর অভিযোগ, জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও দলটির সমর্থকদের আচরণে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনারও কোনো লক্ষণ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশে ও বিদেশে সক্রিয় এমন নেটওয়ার্ককে প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার সম্পন্ন করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি গণহত্যা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারপ্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার আহ্বান জানান এই এনসিপি নেতা।
বিবৃতিতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, দেশের সংকটময় সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তাঁদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ঘটনাটি সামনে আসে গত সোমবার। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে লক্ষ্য করে কয়েকজন ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে দেখা যায় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে উদ্দেশ করে ‘আপনি এখানে কেন এসেছেন’ এবং ‘ফিরে যান’—এ ধরনের কথা বলতেও শোনা যায়।
এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে ভিডিওতে দেখা ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের বিমানবন্দরের এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। একদিকে নাহিদ ইসলাম ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে ভিডিওতে দেখা আচরণ এবং হেনস্তার অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন