ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
দুই দিনের ধর্মঘটের পর হঠাৎ সিদ্ধান্ত, কী ঘটল ঢাকা মেডিকেলে? ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে প্রাণ গেল ৫ জনের আনসার-ভিডিপি সদস্যদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সফিপুরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের অভিযোগ, ড্যাব নেতার পদ স্থগিত ইরানে নতুন হামলা হলে বিশ্ববাজারে বড় প্রভাবের আশঙ্কা, সতর্ক করলেন আরাগচি ‘সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন’ গুলিস্তান-সদরঘাট সড়কে হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা, দোকান বসালেই গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভোট গণনা যত বাড়ছে, কমছে নেতানিয়াহুর ভোটের হার

নোবেল পুরস্কারের পেজে রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষী চিঠি প্রকাশ

একটি চিঠি, যার বয়স এক শতাব্দীরও বেশি। অথচ সেই চিঠির প্রতিটি শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে মানুষের জীবন, অসীমের
  • আপলোড সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময়
  • আপডেট সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময়
নোবেল পুরস্কারের পেজে রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষী চিঠি প্রকাশ

একটি চিঠি, যার বয়স এক শতাব্দীরও বেশি। অথচ সেই চিঠির প্রতিটি শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে মানুষের জীবন, অসীমের উপলব্ধি আর দর্শনের গভীর এক জগৎ। একদিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অন্যদিকে ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল। দুই ভিন্ন ভূখণ্ডের এই দুই মনীষীর চিন্তার আদান-প্রদানের ঐতিহাসিক দলিল সামনে এনেছে নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ। ১৯১২ সালের ১৩ অক্টোবর লেখা সেই চিঠির ছবি প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁদের দার্শনিক ভাবনা ও পারস্পরিক যোগাযোগের ইতিহাস।


চিঠিটি সংরক্ষিত রয়েছে কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে থাকা বার্ট্রান্ড রাসেলের ব্যক্তিগত নথিপত্রের সংগ্রহে। নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ চিঠিটির ছবি প্রকাশ করে পাঠকদের সামনে এই ঐতিহাসিক দলিল তুলে ধরেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চিঠিটির বিষয়বস্তু আজও দর্শন, সাহিত্য ও চিন্তাচর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উল্লেখ করেন, তিনি সম্প্রতি রাসেলের ‘ধর্মের মূলসত্তা’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ পড়েছেন। সেই প্রবন্ধ তাঁকে মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা। এরপর তিনি চিঠিতে রোমান হরফে সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন এবং তার ইংরেজি অনুবাদ ও দার্শনিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।


রবীন্দ্রনাথের ব্যাখ্যার কেন্দ্রে ছিল মানুষের সীমাবদ্ধ সত্তা অতিক্রম করে অসীমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ভাবনা। তাঁর দৃষ্টিতে, মানুষ যখন নিজের সংকীর্ণ ব্যক্তিসত্তার গণ্ডি পেরিয়ে অসীমের আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে, তখনই তার মধ্যে জাগতিক ভয় থেকে মুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হয়। এই উপলব্ধি কেবল ধর্মীয় চিন্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের অস্তিত্ব, আত্মপরিচয় এবং জীবনের গভীর অর্থ অনুসন্ধানের সঙ্গেও যুক্ত।


ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড সফরের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে বার্ট্রান্ড রাসেলের সাক্ষাৎ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে চিন্তাভাবনার আদান-প্রদানের নিদর্শন হিসেবে এই চিঠি বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করে। চিঠিটি দেখায়, ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা দুই চিন্তাবিদ কীভাবে মানুষের অস্তিত্ব ও দর্শনের মতো গভীর বিষয় নিয়ে ভাবনার আদান-প্রদান করেছিলেন।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে তাঁর ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদসহ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিতে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনিই ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী। অন্যদিকে, বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। সাহিত্য, দর্শন ও মানবচিন্তায় তাঁদের অবদান বিশ্বজুড়ে আজও আলোচিত।


এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো এই চিঠি তাই নিছক ব্যক্তিগত পত্রালাপ নয়। এটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের চিন্তাজগতের সংযোগ, মানুষের সীমাবদ্ধতা ও অসীমের সম্পর্ক নিয়ে দার্শনিক অনুসন্ধান এবং দুই মনীষীর বৌদ্ধিক যোগাযোগের একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন। সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের ভাবনা নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চা ও আত্মঅনুসন্ধানে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু

শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু