স্পেনে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে শুরু হয়েছে ব্যাপক অভিযান। তবে কী কারণে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে এমন সংঘর্ষ ঘটল, তা জানতে চলছে তদন্ত।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় তোলেদো প্রদেশের উর্দা এলাকার কাছে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জরুরি সেবাবিষয়ক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটের দিকে ট্রেন দুটির সংঘর্ষ হয়। ট্রেন দুটি মাদ্রিদ থেকে সেভিয়া রুটে চলাচল করছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি ট্রেন অন্য একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অন্তত দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। এতে বহু যাত্রী হতাহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, জরুরি সেবাকর্মী এবং চিকিৎসক দল। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাতে বিভিন্ন জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। বগির ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আহতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আহতদের অবস্থা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে অপেক্ষা করছেন স্বজন ও সাধারণ মানুষ।
কীভাবে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেন একই রুটে সংঘর্ষে জড়াল, তা এখন তদন্তকারীদের সামনে বড় প্রশ্ন। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। রেল পরিচালনা, সংকেতব্যবস্থা কিংবা অন্য কোনো বিষয় এর পেছনে ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। এই দুর্ঘটনার পর ওই রুটে যাত্রী চলাচল ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। স্পেনের এই ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয়, আহতদের অবস্থা এবং সংঘর্ষের কারণ নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন