কালো জাদু থেকে বাঁচতে কী করা উচিত? আর নিজের পরিবারের কেউ যদি জাদুটোনার মাধ্যমে ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাহলে তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা কি ইসলামে নিষিদ্ধ? ধর্মীয় বিশ্বাস, আত্মরক্ষা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা, যা তুলে ধরা হয়েছে ইসলামী আলোচনায়।
ইসলামের দৃষ্টিতে জাদুটোনা গুরুতর নিষিদ্ধ কাজ। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে হজরত সুলাইমান (আ.)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি কুফরি করেননি; বরং শয়তানরাই মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত। ইসলামী শিক্ষায় এ আয়াতকে জাদুচর্চার নিন্দা এবং এর বিপদ সম্পর্কে সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। কালো জাদু বা জাদুটোনা থেকে সুরক্ষার জন্য পবিত্র কোরআনে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সুরা ফালাকে সৃষ্টির অনিষ্ট, অন্ধকারের অনিষ্ট এবং গিঁটে ফুঁ দিয়ে জাদু করা ব্যক্তিদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। একইভাবে সুরা নাসেও মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা সৃষ্টিকারীর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে।
ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করতেন। তাই মুসলমানদের জন্য নিয়মিত এসব সুরা পাঠ, দোয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কারও জীবনে শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক অস্থিরতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা আর্থিক সংকট দেখা দিলেই সেটিকে কালো জাদুর ফল বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এসব সমস্যার বাস্তব ও স্বাভাবিক কারণও থাকতে পারে। তাই প্রমাণ ছাড়া কাউকে জাদুটোনার অভিযোগে অভিযুক্ত করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
এবার আসা যাক আত্মীয়তার সম্পর্কের প্রশ্নে। ইসলামে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে বাস্তব ক্ষতি বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। ইসলামী চিন্তাবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো আত্মীয়ের ক্ষতিকর আচরণ নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হলে এবং তার সংস্পর্শে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখা যেতে পারে। তবে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা উচিত নয়। নিরাপদ থাকলে দূর থেকে সালাম দেওয়া, খোঁজখবর নেওয়া কিংবা দোয়া করার মাধ্যমে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া। কেউ সত্যিই ক্ষতি করলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে হবে। আর অসুস্থতা বা মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, নিয়মিত দোয়া করা, অন্যের প্রতি অন্যায় অ
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন