ঢাকা | |

ইসরায়েলে ভোট আজ, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি নেতানিয়াহু

দীর্ঘদিনের ক্ষমতা কি এবার হাতছাড়া হতে যাচ্ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর? নাকি নির্বাচনের পর আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়বে
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৯ সময়
  • আপডেট সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৯ সময়
ইসরায়েলে ভোট আজ, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি নেতানিয়াহু

দীর্ঘদিনের ক্ষমতা কি এবার হাতছাড়া হতে যাচ্ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর? নাকি নির্বাচনের পর আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়বে দেশটি? গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত, নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের চাপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে ইসরায়েল। সর্বশেষ জনমত জরিপে বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দল এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষেরই নিশ্চিত নয়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে ছোট দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পর এই নির্বাচনকে ইসরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও সরকারের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। তবে সর্বশেষ জনমত জরিপের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট কিংবা বিরোধী শিবির—কেউই এককভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না।


তিনটি প্রধান টেলিভিশনের প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার দল ২২ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল পেতে পারে ১৯ থেকে ২১টি আসন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদের নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ১৪ থেকে ১৫টি।


জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট সর্বমোট ৫০টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫২ থেকে ৫৬। অর্থাৎ, নির্বাচনে কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার গঠনের জন্য শুরু হবে কঠিন দর-কষাকষি। সেক্ষেত্রে ছোট দলগুলোর সমর্থনই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে। এবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ যোগ্য ভোটারের মধ্যে আনুমানিক ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিক রয়েছেন। জরিপে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমর্থন পাওয়া দলগুলো ১৪ থেকে ১৬টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ফলে সরকার গঠন কিংবা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন গ্যাডি আইজেনকোট সরকারি জবাবদিহি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে নিরাপত্তা ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তাঁর অবস্থানও যথেষ্ট কঠোর। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করেছেন তিনিও। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু জাতীয় নিরাপত্তাকে সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রেখেছে।


সব মিলিয়ে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন, নাকি বিরোধীরা নতুন সরকার গঠনের সুযোগ পাবে—তা নির্ভর করবে ভোটের ফলাফল এবং নির্বাচনের পর দলগুলোর জোট গঠনের সক্ষমতার ওপর।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু

শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু