যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের জন্য সরাসরি তেহরানকে দায়ী করে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত শুরু করেনি, বরং ইরানই প্রথম যুদ্ধ শুরু করেছে। একই সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করে সামরিক অভিযানের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের করিন্থ শহরে এক নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেই তিনি অবস্থান করছেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেনি; ইরানই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। এমনকি সামরিক সংঘাতের কারণে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিলেন বলে জানান।
যুদ্ধবিরতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তবে শুরু থেকেই এই ব্যবস্থা তাঁর খুব একটা পছন্দ ছিল না। তাঁর মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও ওই যুদ্ধবিরতি কার্যত সময়ের অপচয় হয়েছে। এদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগজনক দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোও ইরানের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারত বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বিশেষভাবে সান ডিয়েগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের নাম উল্লেখ করে বলেন, ইরান এসব মার্কিন শহরেও হামলা চালাতে পারত। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে বক্তব্যে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং সামরিক অভিযানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
তবে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা কতটা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে আপাতত বোঝা যাচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতেই আগ্রহী তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন