যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম—এমনই দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর এই মন্তব্যে আবারও সামনে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তেহরানের অবস্থান। একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে মঙ্গলবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। সেই বৈঠকেই মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সমস্যা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের সমস্যা সমাধানে নিজেরাই সক্ষম। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক বিষয়ে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
বৈঠকে ইরান ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ইরানের দৃষ্টিতে, এসব দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এখানে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশের মধ্য দিয়ে পেজেশকিয়ান ইঙ্গিত দিয়েছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় বিকল্প অংশীদারত্ব জোরদার করতে চায় তেহরান। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাস্তবে কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের বিরোধ মেটাতে পারবে, তা নির্ভর করবে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর। ইরানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে তেহরানের রাজনৈতিক বার্তাও। এখন দেখার বিষয়, পেজেশকিয়ানের এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ইরান-রাশিয়ার সহযোগিতায় কতটা প্রভাব ফেলে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন