কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য খনন করা গর্ত থেকে টানা দুই দিন ধরে গ্যাসের সঙ্গে জ্বলছে আগুন। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা করেও আগুন বন্ধ করতে পারেননি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী সংস্থা বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কেন এমন আগুন জ্বলছে, আর কবে নাগাদ তা বন্ধ হতে পারে?
ঘটনাটি ঘটেছে উখিয়ার ছোট ইনানী সিকদার পাড়া এলাকায় আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে। গত মঙ্গলবার সকালে বাড়ির উঠানের সামনে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য খনন করা স্থান থেকে হঠাৎ গ্যাসের সঙ্গে আগুন বের হতে শুরু করে। বুধবার, ২৮ অক্টোবর পর্যন্তও আগুনের তীব্রতা কমেনি। বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজের ব্যবহারের জন্য সেখানে গভীর নলকূপ বসানোর কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু খনন করার পরও পানি না পাওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর কয়েক দিন পর মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই স্থান দিয়ে গ্যাসের সঙ্গে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। কিন্তু এরপরও গ্যাস নির্গমন ও আগুন জ্বলা বন্ধ হয়নি। মাঝেমধ্যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ায় আশপাশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর দূরদূরান্ত থেকে আগুন দেখতে মানুষ ভিড় করছেন। তবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় প্রশাসন ঘটনাস্থলটি নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় এনেছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাপেক্সের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী, গ্যাসের সঙ্গে জ্বলতে থাকা আগুন জোর করে নেভানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই আগুন প্রাকৃতিকভাবে নিভে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, আগুনটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত জ্বলতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা কঠিন হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, গভীর নলকূপ খননের সময় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর ইনানীতে তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। আগুনের প্রকৃত কারণ, গ্যাসের ধরন এবং ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই বিস্তারিত জানা যাবে। আপাতত নিরাপত্তাবেষ্টনী এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন