ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
তাহসিফের মৃত্যুর আগে বান্ধবী ও দীপকে নিয়ে বারে দেড় ঘণ্টা অবস্থান শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত বেশ কয়েকজন ‘এবারের এইচএসসির ফলাফলই আসলে প্রকৃত চিত্র, বিএনপি সরকারকে সাধুবাদ জানাই’ আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ বরিশাল বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার নেমেছে ৪৪.৮৪ শতাংশে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান একীভূত করার ভাবনা, শিক্ষকদের চাকরি যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী কারিগরিতে পাসের হার ৪৯.৪৩%, জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৮৬ জনের মধ্যে ছাত্রী ৭০৬ জন আট বছরের মধ্যে পাসের হার সর্বনিম্ন, ৪৯ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল ৯ গুলিতে আহত উল্লেখ করে মামলা, তদন্তে উঠে এল ‘ঘটনাই ঘটেনি’ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মাদকাসক্তি, পরে ইন্টারনেট দেখে গড়েন ইয়াবা কারখানা

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, ‘বিগ-বি’ উদ্যোগে আসছে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে
  • আপলোড সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৬:২ সময়
  • আপডেট সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৬:২ সময়
বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, ‘বিগ-বি’ উদ্যোগে আসছে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান। দুই দেশের বিশেষ অংশীদারত্বমূলক উদ্যোগ ‘বিগ-বি’কে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানতেইয়ে দুই নেতার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করতে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগটি ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে দুই দেশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্প উৎপাদন, মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য চারটি প্রধান ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এগুলো হলো যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যৌথ উদ্যোগ।

পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত বাংলাদেশে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

মাতারবাড়ীকে ঘিরে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে জ্বালানি, শিল্প ও পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে রূপান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের সরকারপ্রধান। এ ছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজধানীর মেট্রোরেল নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করবে দুই দেশ।

বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সমঝোতা
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। অন্যদিকে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ স্থানান্তর এবং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়মকানুন উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। 

এ ছাড়া খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারেও তাঁরা একমত হয়েছেন। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুই নেতা। এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্প খাতে বহুমুখীকরণে সহায়তা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণে চুক্তিটি সহায়ক হবে বলে যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহ জানিয়েছে জাপান।

প্রতিরক্ষা ও উপকূলীয় নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ছে
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকর হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় একটি টহলজাহাজ দেওয়ার বিষয়টি যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাপানের সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে পাঁচটি টহলবোট দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচির মাধ্যমে আরও সহযোগিতার সুযোগ তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতা। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে সমুদ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল এবং বন্দর নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব
মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজতে হবে। দুই দেশের সরকারপ্রধান একমত হয়েছেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং স্থায়ীভাবে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সংকট নিরসনের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

জলবায়ু, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু সহযোগিতাবিষয়ক একটি আগ্রহপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক দক্ষতা বাড়াতে ‘উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের’ দ্বিতীয় পর্যায়ে জাপানের ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতিকেও স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে জাপানি ভাষা শিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষাবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে অভিন্ন অবস্থান
আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে সমুদ্র ও আকাশপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং সব ধরনের জাহাজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন দুই নেতা। গাজা পুনর্গঠনের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত ও স্থায়ী নিষ্পত্তির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন তাঁরা। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি। 

সফরের শেষ পর্যায়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির জনগণের আতিথেয়তা এবং আন্তরিক অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ