ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পেছাচ্ছে! ২১ বছর পর মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার দল ঘোষণা শেখ হাসিনা আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবেন, এটা বিশ্বাস করি না: জাহেদ বাংলাদেশের আরো বেশি চীনা ভাষা শিক্ষার্থী কেন প্রয়োজন খাদ্য শুধু জীবনের উপকরণ নয়, মানবাধিকারেরও ভিত্তি ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইয়ে বিপর্যস্ত খুলনা বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি উদীয়মান দেশগুলোর চেয়ে অর্ধেক ইরানে তাৎক্ষণিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই: ট্রাম্প

হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইয়ে বিপর্যস্ত খুলনা

একসময় শান্তির নগরী হিসেবে পরিচিত খুলনায় এখন আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। মহানগরী থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন এলাকায়
  • আপলোড সময় : ৪ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৩৪ সময়
  • আপডেট সময় : ৪ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৩৪ সময়
হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইয়ে বিপর্যস্ত খুলনা

একসময় শান্তির নগরী হিসেবে পরিচিত খুলনায় এখন আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। মহানগরী থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও গোলাগুলির ঘটনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। কোথাও বাবাকে হারাচ্ছে সন্তান, কোথাও স্বামীকে হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন স্ত্রী, আবার কোথাও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে পুরো পরিবার।


প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরে খুলনা মহানগরীসহ পুরো জেলায় দুর্বৃত্তদের গুলি ও গণপিটুনিতে ৭৫টি হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। খুলনা মহানগর পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ১ নভেম্বর পর্যন্ত শুধু মহানগরীতেই নারীসহ নিহত হয়েছেন ৩৭ জন। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। নিহতদের অধিকাংশই তরুণ। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন অপরাধে ১৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ সোমবার রূপসা উপজেলার আঠারোবাঁকী নদী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন রায়েরমহলে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে।


পুলিশের তালিকায় খুলনা মহানগরীতে রয়েছে ২২টি সন্ত্রাসী দল ও কিশোর অপরাধী চক্র। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এসব দলের মধ্যে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ কারাগারে থেকেও বাহিনী পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থান করেও অপরাধী চক্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।


হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি নগরীতে বেড়েছে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য। চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র দোকানদার ও ইজিবাইক চালকরাও চাঁদাবাজদের হুমকির মুখে পড়ছেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না পেয়ে ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। পাইকগাছায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। নগরীর নাগরিক নেতারা বলছেন, অপরাধীদের পাশাপাশি তাদের নেপথ্যের মদতদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। তাদের মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।


অন্যদিকে, খুলনা মহানগর পুলিশ বলছে, মাদককে কেন্দ্র করেই এখানে অপরাধের প্রবণতা বেশি। অপরাধী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। জেলা পুলিশও জানিয়েছে, সন্ত্রাস দমনে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান, তল্লাশি ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে নগরবাসীর প্রশ্ন, একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির পেছনে থাকা মূল হোতাদের কবে আইনের আওতায় আনা হবে? কবে আবার নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন খুলনার সাধারণ মানুষ?

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী