প্রস্তুতি হিসেবে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভায় অংশগ্রহণ সহ সেচ্ছাসেবকদের জরুরী সভা এবং বন্যা পূর্ব প্রস্তুতির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সুনামগঞ্জ ইউনিট। ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে ৫ উপজেলার নিম্নাঞ্চল।
পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের অঞ্চল হিসেবে খ্যাত ভারতের চেরাপুঞ্জি। সুনামগঞ্জ থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে এই চেরাপুঞ্জি। এ কারণে সুনামগঞ্জ এলাকায়ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক অনেক বেশি। তাই বর্ষা এলেই সুনামগঞ্জের হাওর-বিল বৃষ্টির পানিতে ভরপুর হয়ে যায়। এছাড়া চেরাপুঞ্জি ঘেঁষা জেলা হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
প্রতিনিয়ত
পানি বাড়তে থাকায় বন্যা আতংকে রয়েছেন, ভাটির জেলার ২০ লাখেরও বেশি
মানুষ।এদিকে,অব্যাহত ভারি বৃষ্টিতে পানি
ঢুকে পড়েছে জগন্নাথপুর উপজেলারও কমপক্ষে ৩০টি গ্রামে। পানি-বন্দী হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন
লক্ষাধিক মানুষ।
অঝোর
ধারায় বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে
দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি
বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারা বাজার, মধ্যনগরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার
নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে প্লাবিত
হয়েছে রাস্তাঘাট। ভোগান্তিতে এলাকার ৫ লাখেরও বেশী
মানুষ।
এদিকে
উজান থেকে নেমে আসা
পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায়
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নিচু
এলাকার তেঘরিয়া, আরপিননগর,কাজীর পয়েন্ট,পশ্চিম হাজীপাড়া ও নবীনগরে রাস্তাঘাট
ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে। আতংকে অনেকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে নৌকা নিয়ে
চলে যাচ্ছেন নিরাপদ উঁচু স্থানে।
সুনামগঞ্জ
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন,সুরমা নদীর
পানি ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি
পেয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত
হচ্ছে। অব্যাহত মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিতে
পানি ঢুকে পড়েছে,জগন্নাথপুর
উপজেলার কমপক্ষে ৩০টি গ্রামে।পানিতে এসব
গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িঘর, শিক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
তলিয়ে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় যোগাযোগ
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিনই
এক-দুই ইঞ্চি করে
পানি বাড়তে থাকায়, বন্যা আতংকে রয়েছেন, স্থানীয়রা।বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ইতোমধ্যে জেলা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরি সভা করেছে। জেলা
প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ
চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যা মোকাবেলায় ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ
থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি
নেয়া হয়েছে। তবে নদ-নদীর
পানি আরও বাড়লে সুনামগঞ্জের
পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন