ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
রাজমিস্ত্রী থেকে বিশ্বকাপ দলে ইগর থিয়াগো রামিসা হত্যা: আদালতে নেওয়া হয়েছে দুই আসামিকে অফ-ফর্মে থাকা বুমরাহকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন জয়াবর্ধন ৭ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন , ছুটি বাতিল হতে পারে বিশেষ আদালতের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে অতিথি জামায়াতের এমপি আগামীকাল থেকে চলবে ১০টি স্পেশাল ট্রেন: রেলমন্ত্রী ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গবাসীদের জন্য বিশাল সুখবর পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের ‘হজে ঝগড়া-বিবাদ নয়, ইবাদতেই মন দিন’- মসজিদে নববীর ইমামের হৃদয়ছোঁয়া আহ্বান শ্রীমঙ্গলে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

দেওভোগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থী-অভিভাবক

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত ২৬ ও ২৭ নম্বর লক্ষ্মীনারায়ণ বালক-বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ
  • আপলোড সময় : ৭ জুলাই ২০২৫, দুপুর ১০:১২ সময়
  • আপডেট সময় : ৭ জুলাই ২০২৫, দুপুর ১০:১২ সময়
দেওভোগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থী-অভিভাবক
নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত ২৬ ও ২৭ নম্বর লক্ষ্মীনারায়ণ বালক-বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করছে। ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দুটি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম একটি ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে ভূমিকম্প ও দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলে ভবনের অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে চারটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

২০১৫ ও ২০১৮ সালের ভূমিকম্পে ভবনের দ্বিতীয় তলায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়, ছাদ ও সিঁড়ির পলেস্তারা খসে পড়ে। ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কায় বাঁশ দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভবনের নিচতলার মাত্র দুটি কক্ষে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত স্থান নেই। ফলে ২০২৩ সাল থেকে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর মন্দিরের দুটি কক্ষে আংশিক পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তবে মন্দিরে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পূজা চলাকালীন উচ্চ শব্দ, জায়গার সংকট ও সময় অপচয়ের কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে, তাদের মতে, ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। আনন্দ-বিনোদন কিংবা স্বস্তিতে পড়াশোনার পরিবেশ নেই।

অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। কেউ কেউ বলছেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে তারা নির্ভার থাকতে পারেন না। ভবন ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কায় অনেকে সন্তানদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয়রা বারবার জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন জানিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাননি। যদিও বর্তমানে স্কুলের জায়গা নিয়ে চলা মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন বলে জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌসী বেগম ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ইঞ্জিনিয়ারদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত একটি নিরাপদ, নতুন ভবন নির্মাণ করে শিশুদের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ