হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মুমিন বান্দা মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু কয়েকটি জিনিসের সাওয়াব তার মৃত্যুর পরও কবরে পৌঁছাতে থাকে । হজরত উসমান (রা) যখন কবরের পাশ দিয়ে যেতেন, তখন কান্নায় তার দাড়ি ও বুক ভেসে যেত। লোকেরা জিগ্যেস করত, আপনি জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা শুনেও এত বেশি কান্নাকাটি করেন না, কিন্তু কবরের পাশ দিয়ে গেলে এত কান্নাকাটি কেন করেন? তিনি বলেন, আমি হুজুর (স)-এর নিকট শুনেছি, কবর আখেরাতের প্রথম ঘাঁটি। যে ব্যক্তি এখানে নাজাত পেয়ে গেল, তার জন্য সমস্ত মনিজল আসান বা সহজ হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি এখানে মুক্তি পাবে না, তার জন্য হাশর-নাশর আরও ভয়ানক হয়ে দাঁড়াবে।
যেসব নেককাজ কবরের আযাব হতে মুক্তির কারণ হতে পারে
(ক)
ইলম—যা সে প্রচার-প্রসার করেছে। অর্থাৎ কাউকে দ্বীনি শিক্ষা দেয়া। এর সাওয়াব অনবরত
মৃতের রূহে পৌঁছতে থাকে যতদিন সেই ইলম দুনিয়ায়
অবশিষ্ট থাকে।
(খ) নেক সন্তান রেখে যাওয়া, যে তার জন্য দোয়া করে।
(গ) কুরআন শরিফ রেখে যাওয়া, যা মানুষ তিলাওয়াত করে ।
(ঘ) আল্লাহর ঘর মসজিদ নির্মাণ করা।
(ঙ) মুসাফির বা যাত্রীদের বিশ্রামের উদ্দেশ্যে সরাইখানা নির্মাণ করা ।
(চ) নল কূপ বা খাল খনন করা ।
(ছ) জীবদ্বশায়, সুস্থাবস্থায় নিজের মাল-সম্পদ থেকে দান সদকা করা ।
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—নেককার বান্দাকে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে অনেক বড় মর্যাদা দান করবেন। সে আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করবে, হে আমার মালিক! এ মর্যাদা কীভাবে আমি প্রাপ্ত হলাম? আমি তো এ আমল করি নি। তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, তোমার সন্তানেরা তোমার জন্য ইস্তিতিগফার ও দোয়া করেছে সেই বরকতে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন