ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
রোববার মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর চীন ইঁদুরে তার কাটার জেরে ৪৮ ঘণ্টা অচল ঢাকার ট্রাফিক এআই ক্যামেরা পর্দা-নিকাব নিয়ে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ: ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এমপি মনিরুলের আর্জেন্টিনা সমর্থকের সঙ্গী ব্রাজিল ভক্ত হলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবেন যেভাবে ২৩ জুন উপলক্ষে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাসিনা-সংশ্লিষ্টদের জব্দ করা ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের ৮০ শতাংশই দুদকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ‘নির্বাচনের আগে ইসলামী ব্যাংক থেকে আমার স্ত্রী ঋণ নিয়েছে ফ্ল্যাট কেনার জন্যে’ আল্লু অর্জুনকে দ্রুত আদালতে হাজিরার নির্দেশ মেসির সেই ট্যাকল নিয়ে রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ আলজেরিয়ার বিশ্ব জুড়ে স্বস্তি, আছে ভয়ও

মৃৎশিল্প হারালেও পোড়ামাটির চাকিতে বেঁচে আছে পাল পরিবার

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা-এর নোহাটা গ্রাম-এ পাল সম্প্রদায়ের অন্তত ২৫টি পরিবার এখনো টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের ওপর ভর
  • আপলোড সময় : ৯ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ২:৪৬ সময়
  • আপডেট সময় : ৯ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ২:৪৬ সময়
মৃৎশিল্প হারালেও পোড়ামাটির চাকিতে বেঁচে আছে পাল পরিবার

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা-এর নোহাটা গ্রাম-এ পাল সম্প্রদায়ের অন্তত ২৫টি পরিবার এখনো টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের ওপর ভর করে। তবে আগের মতো বৈচিত্র্যময় পণ্য নয়, বর্তমানে তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছে পোড়ামাটির চাকি তৈরি। একসময় এই অঞ্চলের কারিগররা কলস, হাঁড়ি-পাতিল, মাটির ব্যাংক, ফুলদানি, পুতুল ও খেলনাসহ নানা ধরনের মৃৎশিল্প তৈরি করতেন। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যস্ততা থাকত তুঙ্গে। কিন্তু প্লাস্টিক, মেলামাইন ও আধুনিক পণ্যের দাপটে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।


তবে সব্দালপুর ইউনিয়ন-এর নোহাটা গ্রামে এখনো কিছু পরিবার এই পেশা আঁকড়ে ধরে রেখেছে। তারা মূলত পোড়ামাটির চাকি তৈরি করছেন, যা বাথরুম ও বর্জ্য পানির হাউজ নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। কম খরচ, টেকসই ব্যবহার এবং সহজলভ্যতার কারণে এসব চাকির চাহিদা বাড়ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পণ্য আশপাশের জেলা ও উপজেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উজ্জ্বল পাল, মনিকুমার পাল, লিটন পাল, সুজিত পালসহ অনেকেই দিনভর চাকি তৈরির কাজে ব্যস্ত—কেউ মাটির রিং বানাচ্ছেন, কেউ চুল্লিতে পোড়াচ্ছেন, আবার কেউ প্রস্তুত পণ্য সরাচ্ছেন।


কারিগররা জানান, আগে সহজে মাটি পাওয়া গেলেও এখন তা সংগ্রহ করা কঠিন এবং ব্যয়বহুল। পাশাপাশি জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। একজন কারিগর বলেন, “আমাদের অনেকের নিজস্ব জমি নেই। এই পেশার ওপর নির্ভর করেই জীবন চলে। বছরে কয়েক মাস কাজ থাকে, বাকি সময়ে প্রতিমা তৈরির কাজ করি। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই পেশায় থাকবে কি না, তা অনিশ্চিত।”


তারা আরও জানান, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও লাভের পরিমাণ খুবই কম। ফলে ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কেউ আবেদন করলে স্বল্পসুদে ঋণ বা ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল

সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল