মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও তা স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা রয়ে গেছে। গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজার প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও সূচকে সামান্য পতন দেখা গেছে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। এতে বাজারের মোট মূলধন কয়েক হাজার কোটি টাকা কমেছে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহের ব্যবধানে ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে নেমেছে। তবে শরিয়াহ সূচক কিছুটা বেড়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহে মোট ৩৯০টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৩টির দর বেড়েছে, ১৪২টির কমেছে এবং ৩৫টির অপরিবর্তিত ছিল। সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে কয়েকটি বড় ব্যাংক ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির শেয়ার।
মোট বাজার মূলধন সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, বাজারে গড় দৈনিক লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সপ্তাহে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮১৩ কোটি টাকার বেশি, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় পরবর্তীতে বিক্রয়চাপ বাড়ে। পাশাপাশি বড় মূলধনি শেয়ারের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাত, এরপর ওষুধ ও রসায়ন এবং বীমা খাত। ব্যাংক খাতও উল্লেখযোগ্য লেনদেনে অংশ নেয়। লেনদেনের শীর্ষে ছিল বিভিন্ন শিল্প ও ব্যাংক খাতের কয়েকটি কোম্পানি, যার মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন গড়ে কয়েক কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও করপোরেট আয়ের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানই বাজারকে এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন