ঢাকায় চিকিৎসা নিতে এসে চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন পান্না আক্তার। তার ৯ মাস বয়সী সন্তান নাফি নিউমোনিয়া ও পরে হামে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে শ্যামলী শিশু হাসপাতাল-এর হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। রোববার (১৯ এপ্রিল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পান্না আক্তার জানান, সুই, ক্যানুলা, স্যালাইন থেকে শুরু করে সব ধরনের চিকিৎসা সামগ্রী নিজেদের টাকায় কিনতে হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে নাকের সোনার ফুল পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতে ২০ হাজার টাকা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া দিতে হয়েছে। এরপর থেকে ঢাকায় কোনো আত্মীয় না থাকায় থাকা-খাওয়ার খরচও বাড়ছে। ধার-দেনা করে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এদিকে একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন আরও অনেক অভিভাবক। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক জানান, শিশু হাসপাতালে কিছু বেড বিনামূল্যে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ও সেবার খরচ আংশিকভাবে রোগীদের বহন করতে হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক শিশুর মৃত্যু এবং হাজারো সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে সাবেক আইইডিসিআর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের হাসপাতালে এনে পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব এবং হাসপাতালের সীমিত সুবিধা—সব মিলিয়ে দরিদ্র পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। এ অবস্থায় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন