বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ বদলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। চলমান ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, খাদ্যপণ্য, ওষুধ, নির্মাণ ও পোশাকসহ প্রায় সব খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এর ফলে শেষ পর্যন্ত চাপ পড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর, যাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং বাজারে চাহিদাও হ্রাস পায়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি থাকলেও যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপুল আর্থিক ক্ষতি ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশেও এর প্রভাব স্পষ্ট। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ আরও বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমতে পারে, রপ্তানি ও আমদানি উভয়ই হ্রাস পেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং সানেম-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা এবং ব্যয়সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা জরুরি। সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক অস্থিরতা এখন শুধু একটি পণ্যের দাম নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন