আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের ন্যূনতম সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে করপোরেট ও আমদানি শুল্কসহ বিভিন্ন খাতে করহার হ্রাস ও অটোমেশনের সুপারিশও করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরে ডিসিসিআই। সংগঠনটি অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পাশাপাশি কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের দাবি জানায়।
ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, করজাল সম্প্রসারণ, রাজস্ব আদায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি সহায়তা প্রয়োজন। এতে উদ্যোক্তাদের ব্যয় কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংগঠনটি আরও প্রস্তাব দেয়, সব সরকারি সেবা সংস্থার ডেটা সমন্বয়ের মাধ্যমে সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন চালু করা, কোম্পানির আমানতের উৎসে সুদ হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং নিট সম্পদের ওপর সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করা।
এছাড়া ভ্যাট রিফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা বাতিল, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভ্যাট সংগ্রহ এবং পূর্ণাঙ্গ ভ্যাট অটোমেশন ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, আগামী বাজেটে নন-ট্যারিফ বাধা দূর করায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে ব্যবসার ব্যয় কমে এবং অর্থনীতিতে গতি আসে। তিনি আরও জানান, কর ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করে করের আওতায় আনা হবে এবং ভ্যাট নিবন্ধন সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, করপোরেট কর হার ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭.৫০ শতাংশে আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কার্যকর করহার যাতে না বাড়ে সে বিষয়ে নজর রাখা হবে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে অনলাইনে কর রিটার্ন ও কর ফেরত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন