ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক বাজার ভবন দুই বছর পার হলেও এখনো চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে ভবনটি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের সুযোগও হারিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারতলা ফাউন্ডেশনের ওপর দুইতলা বিশিষ্ট এ বাজার ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভবনটির দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট এবং প্রস্থ ৬০ ফুট। এটি নতুন মুন্সীরহাট বাজার এলাকায় মুন্সীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে অবস্থিত।
ভবনের নিচতলায় কাঁচা বাজার, ফিশ শেড ও মাংস বিক্রির জন্য নির্ধারিত পাঁচটি শেড রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ২৪টি দোকান, যা এখনো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। নিচতলাও আংশিকভাবে অব্যবহৃত পড়ে আছে। এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের গেজেট অনুযায়ী কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভবনটি জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গেজেট সংশোধনের মাধ্যমে হস্তান্তরের পথ উন্মুক্ত হয়।
ফুলগাজী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ বলেন, “নির্বাচনকালীন ব্যস্ততা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দোকান বরাদ্দ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তবে দ্রুত বরাদ্দ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে ভবনটি বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। তবে বর্তমানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পুরাতন মুন্সীরহাট বাজার থাকা সত্ত্বেও তুলনামূলক কম ব্যবহৃত এলাকায় ব্যয়বহুল এ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা অনেকেই ‘অপরিকল্পিত বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখছেন। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, পুরাতন বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত সরকারি জমি না থাকায় নতুন মুন্সীরহাট এলাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত দোকান বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে কোটি টাকার এই অবকাঠামো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন