বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বিকট বজ্রপাতের ঘটনায় দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকসহ ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল শব্দে পৃথক দুটি বিদ্যালয়ে এই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, চরএকরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ বজ্রপাত আঘাত হানলে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলামসহ আট শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে রয়েছে—সপ্তম শ্রেণির জান্নাত বেগম, ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা বেগম, সুমাইয়া বেগম; অষ্টম শ্রেণির মীম আক্তার এবং নবম শ্রেণির আফরোজ আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার। আহত শিক্ষার্থী দোলা জানায়, হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাতের পর তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একই সময়ে আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও বজ্রপাতের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আরও আট শিক্ষার্থী আহত হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শব্দের তীব্রতায় শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, দাদপুর বিদ্যালয়ের আহতদের হাসপাতালে আনা হলেও কেউ গুরুতর দগ্ধ হয়নি। মূলত বজ্রপাতের তীব্র শব্দে তারা শক বা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সবাই এখন শঙ্কামুক্ত। এই ঘটনায় এলাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, কালবৈশাখী মৌসুমে বিদ্যালয়ে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন