দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী হাম ও এর উপসর্গে ৪০৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৩৪৪ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছিল। একই সময়ে সারা দেশে ১ হাজার ৭০৮ শিশু নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৪৯ হাজার ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিড না করানো, সময়মতো টিকা না পাওয়া, ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি, পুষ্টিহীনতা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিউমোনিয়াকে হামে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করা এবং শ্বাসকষ্ট বা জটিল উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে রোগতত্ত্ব ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বজুড়েই হাম বাড়ছে, তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগজনক। তার মতে, বর্তমান প্রাদুর্ভাব আরও কিছু সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দেশের অনেক এলাকায় ছয় মাস পর্যন্ত শিশুদের শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রবণতা কমে গেছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করার অন্যতম কারণ। সরকারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ শিশু হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান ও পুষ্টি কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন