ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিধিনিষেধের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শুক্রবার (১৫ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার, খাদ্যাভ্যাস ও মৌলিক স্বাধীনতার ওপর বিভিন্নভাবে আঘাত আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত প্রশাসনের কিছু বিধিনিষেধ—যেমন উন্মুক্ত স্থানে গবাদিপশু জবাই নিষিদ্ধ এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা—মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রশিবির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এএফসিআর-এর প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা দাবি করেন, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতাসহ একাধিক এলাকায় হামলা, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং ধর্মীয় স্থাপনায় আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বিবৃতিতে তারা ভারতের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন, যার মধ্যে এনআরসি-সিএএ আইন, কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল, বাবরি মসজিদ ধ্বংস, ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংগঠনটি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং মুসলমানদের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দাবি জানায়। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ, ওআইসি, আরব লীগসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন