দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫১২ জন শিশু মারা গেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ১৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশে প্রায় ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ টিকাদান কর্মসূচির ব্যাঘাত এবং নির্ধারিত বয়সের আগেই শিশুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া। সাধারণত ৯ মাস বয়সে হাম টিকা দেওয়া হয়, কিন্তু অনেক শিশু তার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নবজাতক থেকে শুরু করে ১২ বছর বয়সী কিশোরীরাও রয়েছে।
রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চাপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতাল থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায় এবং এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত লাখেরও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন