রাজধানীতে বহুতল ভবনের স্বপ্ন দেখিয়ে শত শত জমির মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতাকে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ১০ থেকে ২০ বছর আগে করা চুক্তির পরও অনেক প্রকল্পে ভবন নির্মাণ শেষ হয়নি, কোথাও শুধু ভিত্তি, কোথাও আবার অর্ধসমাপ্ত কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিজেদের বাড়িঘর ভেঙে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর বছরের পর বছর ধরে তারা ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। একসময় যারা নিজস্ব বাড়িতে থাকতেন এবং ভাড়া আয় করতেন, এখন তাদের অনেকেই আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক জমির মালিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজেদের জমিতে নতুন ভবন দেখতে পারেননি। সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্থানে নির্মাণকাজ বহু বছর ধরে বন্ধ। কোথাও মরিচা ধরা রড দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও জমে থাকা পানিতে সৃষ্টি হয়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত এসব স্থানে সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আনাগোনাও বাড়ছে।
শুধু জমির মালিকরাই নন, বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য ফ্ল্যাট ক্রেতাও। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজ শেষ না হলেও বিভিন্ন প্রকল্পে আগাম অর্থ নিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি করা হয়েছে। অনেক ক্রেতা তাদের সঞ্চয়ের বড় অংশ বা পুরো অর্থ পরিশোধ করেও বছরের পর বছর ধরে ফ্ল্যাট বুঝে পাননি। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন আদালতে একাধিক রায়ও হয়েছে। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না।
তাদের অভিযোগ, বিদ্যমান আইন জমির মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন না হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর বিধান না থাকায় অনেকেই বছরের পর বছর ধরে আইনি জটিলতায় আটকে আছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ করে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা যাচাই করুক এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একই সঙ্গে আবাসন খাতে জবাবদিহি ও তদারকি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন