দেশজুড়ে জ্যৈষ্ঠের দাবদাহ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই গরমের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের ৪৯টি জেলা বর্তমানে তাপপ্রবাহের কবলে রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, শুধু তাপমাত্রা নয়, বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। ফলে দিন ও রাত—উভয় সময়েই মানুষ ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে কষ্ট ভোগ করছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই দ্রুত আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
তবে কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে, যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতেও দিনভর গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। বিকেল বা সন্ধ্যায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা সামগ্রিক তাপদাহ কমাতে খুব বেশি ভূমিকা রাখবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া চলতে পারে। তাই বাইরে বের হলে পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন