ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় এক দরিদ্র মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়ভীতি ও মুসলিমবিদ্বেষী আচরণের কারণেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। স্থানীয় ও ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতে গিয়ে ওই ব্যক্তি সুপুরডিহি গ্রামে হামলার শিকার হন। পরিবারের ভাষ্য, তাকে জোরপূর্বক একটি বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা জানান, তিনি আগেই মারা গিয়েছিলেন।
নিহতের ছেলে অভিযোগ করেন, এলাকায় দাড়িওয়ালা মুসলিম ফেরিওয়ালাদের প্রায়ই নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান উচ্চারণে বাধ্য করা হতো এবং ব্যবসা করতে বাধা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো। তার দাবি, এসব কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারাও জানান, বহু বছর ধরে কোনো বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই তারা ওই এলাকায় ফেরি করলেও সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বেড়েছে। তাদের ভাষায়, প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে বের হলেও মনে কাজ করে অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা।
অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বাড়ির ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার পেছনে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তদন্তকারীদের ধারণা, ব্যক্তিগত বিরোধ বা ঝগড়ার জেরেও এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নিহতের পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের আশা, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন