ঢাকা | |

বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমানোর সুস্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না বলে
  • আপলোড সময় : ১৬ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়
  • আপডেট সময় : ১৬ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়
বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমানোর সুস্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট, মজুরির চাপ এবং সঞ্চয়ের অবক্ষয়—এই তিন ধরনের অর্থনৈতিক চাপে নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে হতে পারে। রাজধানীর মহাখালীর একটি অনুষ্ঠানে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক ওই ব্রিফিংয়ে বাজেট নিয়ে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির আরেক ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। সেখানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রাশেদা কে চৌধূরীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এতে আর্থিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।


তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ না হলে ব্যয় সমন্বয় কোথায় হবে—এটি বড় অনিশ্চয়তা। ভর্তুকি কমানো হলে তার প্রভাব সরাসরি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ওপর পড়তে পারে। কর কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি জানান, করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো হলেও মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয়ের মানুষদের ওপর চাপ খুব বেশি কমবে না। ভবিষ্যতে ভ্যাটনির্ভর রাজস্ব কাঠামো সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়াতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার, রেস্তোরাঁ খরচ, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতে ভ্যাটের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু সংস্কার উদ্যোগ যেমন করদাতা নিবন্ধন সম্প্রসারণ, ডিজিটালাইজেশন ও কর ফাঁকি রোধের পদক্ষেপকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাজেটে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণের উদ্যোগ থাকলেও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে না। তিনি বাজেট বাস্তবায়নকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শুধু বাজেট ঘোষণা নয়, বরং বাস্তবায়নে ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।


তিনি আরও বলেন, বাজেটের অনেক প্রাক্কলন পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি ভর্তুকি ব্যবস্থা আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার ওপরও জোর দেন তিনি। শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
নবম বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ চুক্তি সই

নবম বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ চুক্তি সই