ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ লিখিত নথি দেখতে চাইলেও সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই সমঝোতাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেল আবিব চুক্তির মূল পাঠ্য হাতে পাওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানালেও ওয়াশিংটন তা গ্রহণ করেনি। তবে সমঝোতার সাধারণ বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে সীমিত তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৪ জুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়া এই সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের নতুন পথ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য ইতিবাচক।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের একটি অংশ চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সমঝোতার কিছু গোপন ধারা ভবিষ্যতে ইরানের কৌশলগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে। দেশটির কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক প্রকাশ্যে এই সমঝোতার সমালোচনাও করেছেন। এদিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সমঝোতাটি অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলকে চুক্তির মূল নথি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এই সমঝোতা কার জন্য বেশি লাভজনক—সে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন