বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। একসময় শত শত কোয়ার্টারে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে স্থাপন করা গভীর নলকূপ, ওভারহেড ট্যাংক, মোটর ও পাইপলাইন এখন অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এভাবে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় রাষ্ট্রীয় প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আটটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গভীর নলকূপ এবং সমানসংখ্যক বড় পানির ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু চার দশক আগে পুরো ব্যবস্থাই অচল হয়ে যায়। এরপর আর কার্যকরভাবে চালু করা হয়নি।
বর্তমানে রেলওয়ের আবাসিক কোয়ার্টারে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিজ উদ্যোগে টিউবওয়েল বসিয়ে অথবা দূর থেকে পানি সংগ্রহ করে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত ভাড়া ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধ করলেও মৌলিক সেবা হিসেবে নিরাপদ পানি পাচ্ছেন না তারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, বহু বছরের অবহেলায় পাম্পহাউসগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ওভারহেড ট্যাংক, পাইপলাইন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশে মরিচা ধরেছে। অনেক স্থানে মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। এছাড়া পাম্পহাউস ঘিরে থাকা রেলওয়ের জমির একটি অংশও অবৈধ দখলের অভিযোগ রয়েছে।
রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ না থাকায় আবাসিক এলাকায় বসবাস করা পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ে পানির ব্যবস্থা করলেও সরকারি ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। রেলওয়ে শ্রমিক নেতারা দ্রুত নষ্ট হওয়া অবকাঠামো সংরক্ষণ, অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং আবাসিক এলাকায় পুনরায় সুপেয় পানি সরবরাহ চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন