রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত মে মাসে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য সফরের সময় তার একটি টেলিফোন আলাপকে কেন্দ্র করে পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি বা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় কিংবা তার উত্তরসূরি কে হবেন—সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি পুরোপুরি আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। এদিকে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়া, অসুস্থতা, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি না হওয়া এবং প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। ফলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপ্রধানের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন। সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করলে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বের অবসান হবে। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় বিধান আগে থেকেই সংরক্ষিত রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন