ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এর শিরোপা জয়ের পর ব্যক্তিগত পুরস্কারের মঞ্চেও একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক এবং সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার—তিনটিই গেছে স্প্যানিশদের দখলে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মান জিতে ইতিহাস গড়েছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর আলোচনার কেন্দ্রে থাকা লিওনেল মেসিকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ‘সিলভার বল’ নিয়েই। বিশ্বকাপজুড়ে অসাধারণ নেতৃত্ব, মাঝমাঠে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। পুরো আসরেই দলের মাঝমাঠ সামলে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি আক্রমণ গড়ার দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন তিনি।
এদিকে গোলের রাজা হয়েছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। আট ম্যাচে ১০ গোল করে তিনি জিতেছেন ‘গোল্ডেন বুট’। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জয়ের বিরল কীর্তি গড়লেন তিনি। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে ফাইনালে দলের পরাজয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো শীর্ষ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিততে পারেননি তিনি। তবুও তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড়ের ‘সিলভার বল’ পুরস্কার পেয়েছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।
পুরো বিশ্বকাপে মেসি আট ম্যাচে ৮ গোল করার পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করেন। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুই অ্যাসিস্ট আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিক নৈপুণ্যের কারণেই তাকে দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টসেরার গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি। এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলেও বিশ্বকাপ শেষ করেছেন আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নিয়ে।
অন্যদিকে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘ব্রোঞ্জ বল’ জিতেছেন এমবাপ্পে। সেরা গোলরক্ষকের ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ উঠেছে স্পেনের উনাই সিমনের হাতে। পুরো আসরে তিনি মাত্র একটি গোল হজম করেছেন এবং আট ম্যাচে সাতটি ক্লিন শিট রেখে স্পেনের রক্ষণকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন। এছাড়া সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিটি মিনিট মাঠে থেকে তিনি স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন। ফাইনালেও তার দৃঢ় রক্ষণে আর্জেন্টিনার আক্রমণ কার্যত নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে।
শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারের মঞ্চেও স্পেনের এই আধিপত্য প্রমাণ করে, দলীয় সাফল্য থেকে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য—সব ক্ষেত্রেই তারাই ছিল এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন